ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ত্রুটির আগে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।
রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উপমহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানান, ইউনিটটি কেন বন্ধ হয়েছে, তা জানতে প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানরা কাজ করছেন। ত্রুটি শনাক্ত করে ইউনিটটি পুনরায় চালুর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিক মূল্যায়নে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ ইউনিটটি স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে অন্তত চার দিন সময় লাগতে পারে। ফলে এ সময়ে কেন্দ্রটির উৎপাদন ঘাটতি জাতীয় গ্রিডের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে প্ল্যান্টে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে। অর্থাৎ জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়নি। তবে একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও বিকল্প ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আগাম ত্রুটি শনাক্তকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
রামপাল কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি হয় কি না, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে দীর্ঘ সময় একটি ইউনিট বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়মিত ওভারহোলিং, যন্ত্রপাতি পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
Leave a comment