Home জাতীয় রপ্তানিতে মন্দায়ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা, অর্জন নিয়ে সংশয়
জাতীয়

রপ্তানিতে মন্দায়ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা, অর্জন নিয়ে সংশয়

Share
A clerk poses with US dollar banknotes at a money changer in Jakarta on May 2, 2024. (Photo by ADEK BERRY / AFP) (Photo by ADEK BERRY/AFP via Getty Images)
Share

গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি আয় কমলেও চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার বাস্তবতায় এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা।

গত ২৬ জুলাই সচিবালয়ে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণবিষয়ক সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, চলতি অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে প্রায় ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা অর্জিত হয়নি।

লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার পিছিয়ে

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। যদিও ওই অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার কম আয় হয়েছে।

এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের প্রকৃত রপ্তানি আয়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

বিশেষজ্ঞদের সংশয়

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত অর্থবছর রপ্তানি ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি নিয়ে শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পে জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তাঁর মতে, এসব বাস্তবতায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।

সরকারের আশাবাদ

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

তিনি জানান, চলতি বছর কয়েকটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ

রপ্তানিকারকদের মতে, উচ্চ সুদের হার, গ্যাস সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা উৎপাদন ও রপ্তানিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্বালানি সংকট। এতে অনেক কারখানার উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হলে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিও কঠিন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত অর্থবছরের অধিকাংশ সময়ই রপ্তানি কমেছে। এমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি, যাতে এক বছরে রপ্তানি ১৫ শতাংশ বেড়ে যাবে।

তাঁর মতে, বর্তমান বাস্তবতায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনই বড় সাফল্য হবে।

পোশাক খাতেই সবচেয়ে বেশি চাপ

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তবে গত অর্থবছরে তৈরি পোশাক ও নিট পোশাক—উভয় খাতেই রপ্তানি আয় কমেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সময় বৈশ্বিক চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, বাংলাদেশের বাজার অংশীদারত্ব এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান মো. টিপু সুলতান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় এ খাতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

সেনাদের মোবাইলের ভিডিও দেখে হামলার মূল্যায়ন করছে ইরান, সতর্ক করলেন মার্কিন কমান্ডার

  মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত...

রক্তমাখা জাতীয় পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন জুলাইয়ে আহত আজিজুর

জুলাই গণ-আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মাথার রক্তক্ষরণ ঠেকাতে যে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধেছিলেন, সেই রক্তমাখা পতাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছেন শেখ...

Related Articles

দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

দেশের সাত জেলার ওপর দিয়ে আজ শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায়...

যেসব এলাকায় ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না আজ

বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন লাইনের তার সংযোজন এবং লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা...

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২২ ক্যারেট ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত...

আজ পালন করা হয় ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি, কে দিয়েছিলেন এই নাম?

  জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও নির্যাতিতদের স্মরণে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট দেশজুড়ে...