ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীকে নিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছেন দেশটির চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। এর ঠিক এক দিন আগেই অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের চরম স্পর্শকাতর ও পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বরেও একইভাবে প্রবেশ করেছিলেন বিতর্কিত এই মন্ত্রী।
ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘সুক্কোত’ চলাকালে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-এ প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, হেবরনের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা বেন-গভির উসকানিমূলক ভঙ্গিতে শত শত সশস্ত্র ও অনধিকার প্রবেশকারী বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ে মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “ইব্রাহিমি মসজিদে এলে আমি এমন শক্তি পাই, যাতে গান গাইতে ও আনন্দ প্রকাশ করতে ইচ্ছা করে।”
ইহুদি উৎসব উপলক্ষ্যে গত সোমবার থেকেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইব্রাহিমি মসজিদে সাধারণ মুসলিম মুসল্লিদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক ক্ষুব্ধ বিবৃতিতে জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা চালুর মাধ্যমে মসজিদে সাধারণ মুসলমানদের সালাত আদায় ও আজান দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদটি সম্পূর্ণভাবে ইসলামিক ওয়াকফের সম্পত্তি উল্লেখ করে তারা আরও জানায়, ধর্মীয় উৎসবের অজুহাতে মসজিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং নামাজিদের বাধা দেওয়া সরাসরি মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। অবিলম্বে এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ বন্ধ না করা হলে মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা জারি করেছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক হেবরনের পুরোনো শহরে অবস্থিত ইব্রাহিমি মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলি সেনা বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রায় দেড় হাজার সেনার পাহারায় সেখানে চারশত অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন। এর আগে ১৯৯৪ সালে এক চরমপন্থী ইহুদি আততায়ীর গুলিতে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি শহীদ হওয়ার পর ইসরায়েল একতরফাভাবে মসজিদটি বিভক্ত করে ৬৩ শতাংশ স্থান ইহুদিদের এবং ৩৭ শতাংশ অংশ মুসলমানদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেয়। এমনকি নির্দিষ্ট উৎসবের দিনে মুসলমানদের সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার রুদ্ধ করার নিয়ম চালু করা হলেও ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মুসলমানদের প্রাপ্য অধিকারও চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
Leave a comment