বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘি থেকে একটি নারী কুমির সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মাজার কর্তৃপক্ষ। কুমিরটি দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, জননিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি সভার সিদ্ধান্তে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (৩ জুন) বন বিভাগের একটি দল দিঘি থেকে কুমিরটি উদ্ধার করে খুলনার উদ্দেশে নিয়ে যায়।
এর আগে সোমবার রাতে দিঘিতে গোসলে নেমে ৮ বছর বয়সী এক শিশু কুমিরের আক্রমণে নিহত হয়। ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে প্রশাসন কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
মঙ্গলবার রাতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার কুমিরটি দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় মাজার কর্তৃপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
মাজার কর্তৃপক্ষের দাবি, কুমিরটি দীর্ঘদিন ধরে মাজারের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। তাদের মতে, নিরাপত্তা জোরদার করার মাধ্যমে কুমিরটি দিঘিতেই রাখা যেত।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার আগে নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু প্রশাসন হঠাৎ করেই কুমিরটি সরিয়ে নেয়।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, কুমিরটি আবার দিঘিতে ফিরিয়ে আনা হোক।”
দর্শনার্থীদের একাংশ কুমিরটিকে মাজারের ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করে দিঘিতে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Leave a comment