ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস লিঙ্কনের পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে আরেকটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
মধ্যপ্রাচ্য তদারকির দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জানিয়েছে, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বুধবার আরব সাগরে পৌঁছেছে। এটি ‘নির্ধারিত মোতায়েন কার্যক্রমের অংশ’ হিসেবে সেখানে গেছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
এই স্থানান্তরের ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সেখানে বর্তমানে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন নেই।
গত সপ্তাহে মার্কিন নৌবাহিনী ইউএসএস লিঙ্কনকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। রণতরীটি গত বছরের নভেম্বরে সান দিয়েগো বন্দর ছেড়ে ভেনেজুয়েলার উপকূলের দিকে যায়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে এর গতিপথ পরিবর্তন করে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়।
কোনো বন্দরে নোঙর না করে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের ক্ষেত্রে ইউএসএস লিঙ্কন মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের রেকর্ড গড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে রণতরীটিতে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সমস্যা এবং খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিধির প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতির খবর প্রকাশের পর গত সপ্তাহে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। রণতরীতে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার নৌসেনা ও মেরিন সদস্যের কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরাও দীর্ঘ এই মিশনের কারণে তাঁদের ওপর মানসিক চাপের কথা প্রকাশ্যে আনেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে রণতরীতে থাকা কয়েকজন সদস্যের জাহাজ থেকে সাগরে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।
বেশ কয়েকজন ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেছেন, রণতরীটির পরিস্থিতি যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের দুর্বল পরিকল্পনার প্রমাণ। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধটি এখনো সুনির্দিষ্ট সমাপ্তির দিকে এগোয়নি এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার অঙ্গীকার করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক পথে জাহাজ চলাচল বাড়াতে তারা অগ্রগতি করেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে বজায় রাখার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইউএসএস লিঙ্কনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, জাহাজে থাকা সদস্যরা যুদ্ধকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার লক্ষ্যে তৈরি একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ সোমবার শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শিগগিরই আবার শুরু হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযানের’ ঘোষণা দেন। ইরান দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই ঘোষণাকে বিভ্রান্তিকর কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বড় পরাজয় ডেকে আনবে।
Leave a comment