সৌদি আরবে একটি মাদক পাচার মামলায় এক ভারতীয় নাগরিকের ২৫ বছরের কারাদণ্ড বৃদ্ধি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়েছে। একই সাথে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এই চরম সাজা বাস্তবায়নের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত লাখ লাখ প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিচারিক ও মানবিক ইস্যুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রহস্যজনক কূটনৈতিক নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে।
আন্তর্জাতিক একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের দাম্মাম কারাগারে ভারতের কেরালার মাহের পেরিংগাদির বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী আবৃত্তি ভাল্লিয়িরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সীমান্তে তল্লাশিকালে গ্রেপ্তারের পর সৌদি বিচারিক আদালত তাঁকে প্রথমে ২৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ রিয়াল জরিমানা অনাদায়ে দণ্ড প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সৌদি রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ভিত্তিতে বিচারিক আপিল আদালত পূর্বের রায় বাতিল করে তাঁকে চূড়ান্ত মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
নিহত প্রবাসীর স্বজনদের দাবি, ওমানে একটি মোবাইল দোকানে কর্মরত আবৃত্তিকে কান্নুরের এক পরিচিত ব্যক্তি সউদী-ওমান সীমান্ত দিয়ে একটি গাড়ি সৌদি আরবে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেন। তাঁকে বলা হয়েছিল গাড়ির একটি ফুয়েল ট্যাংকে ত্রুটি রয়েছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে সেই ট্যাংকের ভেতরেই ৪৩ কেজি মেথঅ্যামফিটামিন জাতীয় মারাত্মক ড্রাগস লুকানো ছিল। তিনি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও সীমান্তে তল্লাশির সময় পুলিশ তাঁকেই মূল অপরাধী হিসেবে আটক করে। অর্থসংকটের কারণে দরিদ্র পরিবারটি সৌদি আরবে পর্যাপ্ত আইনি লড়াই চালাতে ব্যর্থ হয় এবং তাকে আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি হতে হয়।
আবৃত্তির বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান তাঁকে বাঁচানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। পরিবারটির অভিযোগ, মূল প্রতারক ঘটনাটি স্বীকার করার পরও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যকর কূটনৈতিক কনস্যুলার সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তা সত্ত্বেও নরেন্দ্র মোদি সরকার বা ভারতের কূটনৈতিক মিশন সৌদি সরকারের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় চাপ তৈরি করতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সউদী আরবে মাদক ও সীমান্ত চোরাচালানের অপরাধে কঠোর ‘তাজির’ আইন প্রযোজ্য, যেখানে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ডই সর্বোচ্চ বিধান। এছাড়া ভারতের সাথে সৌদি আরবের কৌশলগত, বাণিজ্যিক এবং বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকায় দিল্লি এ ধরনের বিচারিক রায় নিয়ে প্রকাশ্য সংঘাতে যাওয়া এড়িয়ে গেছে। তবে এক প্রবাসীর জীবনের বিনিময়ে দিল্লির এমন উদাসীন ও নীরব ভূমিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানবাধিকার মহলে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
Leave a comment