বাবার নিথর দেহ তখনও নিজ বাড়িতে রাখা। আর মাত্র কিছুক্ষণ পর শুরু হবে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার শেষ বিষয়ের পরীক্ষা। বুকভাঙ্গা কান্না ও স্বজন হারানোর গভীর শোক বুকে চেপে রেখেই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছিল নোয়াখালীর অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী আবতাহি উদ্দিন লাবিব। পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফিরেই অংশ নেয় বাবার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ায়।
সেই কঠিন শোককে পরম শক্তিতে রূপান্তর করে লাবিব আজ প্রতিটি বিষয়ে ‘এ-প্লাস’ পেয়ে অর্জন করেছে ঈর্ষণীয় গোল্ডেন জিপিএ-৫। তবে এই বহুল কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের মহেন্দ্রক্ষণে আজ পাশে নেই তাঁর সেই পরম প্রিয় বাবা।কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে চলতি বছর প্রকাশিত ফলাফলে পরীক্ষার্থী লাবিব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এই অনন্য অর্জন করে। গত ২০ মে জীববিজ্ঞান পরীক্ষার দিন সকালে বাবার মরদেহ ঘরে রেখেই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হয়েছিল তাকে। পরীক্ষা শেষে ফিরে শেষবিদায় জানায় বাবাকে। নিমোই সেই করুণ দৃশ্য তখন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।
লাবিবের বাবা মফিদুল আলম ছিলেন চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপক। গত ১৯ মে রাতে রাজধানীতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। স্বজনরা জানান, সন্তানের সর্বোচ্চ ভালো ফলাফল ও উচ্চশিক্ষাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই অশ্রুসজল চোখে নিজেকে শক্ত রেখে হলের টেবিলে বসেছিল লাবিব। এই অর্জন যেন বাবার স্মৃতির প্রতি তাঁর পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক নিদর্শন।
ফলাফল প্রকাশের পর অশ্রুসিক্ত লাবিব জানায়, এই কঠিনতম মুহূর্তে ফলাফল পেয়েও এক অদ্ভুত নীরব শূন্যতা তাকে ঘিরে ধরেছে। বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো আজ নিজে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলতেন— “আমার ছেলে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।” লাবিবের আবেগঘন এই সাফল্য ও স্মৃতিচারণ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। নোয়াখালী জিলা স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ এবং চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের মতে, অভিভাবক হারানোর তীব্র যন্ত্রণা কাটিয়ে উঠে লাবিবের এমন অবিচল মানসিক দৃঢ়তা ও সাফল্য দেশের যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্য এক বিরল এবং অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
Leave a comment