মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসির পরিবর্তে প্রাণঘাতী ইনজেকশনসহ কম যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতিতে শাস্তি কার্যকরের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছেন, নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিই বহাল থাকবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি বিক্রমনাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসির সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রেখে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
আবেদনকারী আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা ফাঁসির পরিবর্তে প্রাণঘাতী ইনজেকশন, গুলি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা বা গ্যাস চেম্বারের মতো পদ্ধতি ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, এসব পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম যন্ত্রণায় দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব।
আবেদনে বলা হয়, ফাঁসি একটি অমানবিক ও যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতি। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৪(৫) ধারায় ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করা হয়।
আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি ছিল, ফাঁসির পর মৃত্যু নিশ্চিত হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। অন্যদিকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনসহ কিছু বিকল্প পদ্ধতিতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব।
তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে আগের তিনটি রায় বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত কারণ নেই। ফলে সেই আবেদনও খারিজ করা হয়েছে।
আদালত অবশ্য বলেছে, এই রায়ই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ভবিষ্যতে বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিকল্প পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করতে পারে।
এর আগে শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি পরিবর্তনে সরকারের অনাগ্রহে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
২০২৫ সালের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছিল, প্রচলিত এই পদ্ধতি অনেক পুরোনো এবং সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। তবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সর্বশেষ রায়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করেছে, নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিই বহাল থাকবে।
Leave a comment