পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক মুদি ব্যবসায়ীকে ভাড়া বাসায় আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চণ্ডীপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চল (৪৭), নাটোরের লালপুর উপজেলার বৃষ্টি খাতুন (৩৫) এবং ঈশ্বরদীর পিয়ারাখালী জামতলা এলাকার মুক্তি খাতুন (২৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জামিরুল ইসলাম (৩৫) বাঘা উপজেলার চণ্ডীপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তাঁদের কাছে দোকানের বকেয়া টাকাও পাওনা ছিল জামিরুলের। এর মধ্যে মুক্তি খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, মুক্তি খাতুনের কথামতো গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পিয়ারাখালী জামতলার মমতাজ ভিলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় যান জামিরুল। সেখানে বৃষ্টি খাতুন ও মুক্তি খাতুন তাঁকে নাশতা দেন। কিছুক্ষণ পর সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলসহ আরও তিন-চারজন ওই বাসায় আসেন।
পরে জামিরুলের সঙ্গে মুক্তি খাতুনের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তাঁর কাছে থাকা ছবি ও ভিডিও তাঁর স্ত্রীকে দেখানোর ভয় দেখানো হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
এ সময় প্রাণনাশের ভয় দেখানো হলে জামিরুল তাঁর স্ত্রী আসমা খাতুনকে মুঠোফোনে কল করে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। পরে তাঁর স্ত্রী ও দুই বন্ধু চণ্ডীপুর থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে ঈশ্বরদীর ওই বাসায় যান। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই টাকা সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চলের হাতে তুলে দেওয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে জামিরুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, জামিরুলকে ছেড়ে দেওয়ার সময় বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বুধবার তিনি ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেলে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
Leave a comment