Home অন্যান্য প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে আটক পুলিশ সদস্য
অন্যান্য

প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে আটক পুলিশ সদস্য

Share
Share

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় দুই সন্তানের জননী এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে আতিকুর রহমান নামে এক পুলিশ সদস্যকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। তিনি নীলফামারী পুলিশ লাইনসে কর্মরত। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে তাকে আটকে রাখা হয়। পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে মুচলেকা নিয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

আটক আতিকুর রহমান কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হরিরামপুর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ লাইনসে যোগদানের আগে তিনি ডোমার থানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডোমার থানায় কর্মরত থাকাকালে প্রবাসীর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে আতিকুরের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে ধর্মীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। এর সূত্রে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গেও তার যোগাযোগ তৈরি হয়।

প্রায় চার মাস আগে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ওই নারী আইনি পরামর্শের জন্য আতিকুরের সঙ্গে নীলফামারী আদালতে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে শ্বশুরবাড়িতে কলহ সৃষ্টি হয় এবং তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ওই নারীকে পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর লক্ষ্যে পারিবারিক সালিস ও সমঝোতার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় আতিকুর রহমান সেখানে উপস্থিত হন।

মেয়ের পরিবারের অভিযোগ, আতিকুর ওই নারীকে শ্বশুরবাড়িতে না পাঠিয়ে তার সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরে আটকে রাখেন।

ওই নারী বলেন, “সংসারে সমস্যা থাকায় আমি আতিকুরের কাছে আইনি পরামর্শ নিয়েছিলাম। তার সঙ্গে আদালতে যাওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে সন্দেহ করে এবং দুর্ব্যবহার শুরু করে। এসব সহ্য করতে না পেরে গত চার-পাঁচ মাস ধরে আমি বাবার বাড়িতে আছি। আমার সংসার ভেঙে গেলে এর দায় আতিকুরকে নিতে হবে।”

নারীর শ্বশুর জানান, আতিকুর তাদের সঙ্গে ধর্মীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলে বাড়িতে যাতায়াত করতেন। চার মাস আগে কাউকে না জানিয়ে ওই নারীকে নিয়ে নীলফামারী যান তিনি। ফেরার পথে সোনারায় বাজারে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তারা এড়িয়ে যান। এ ঘটনার পর থেকে আতিকুরের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই।

অভিযুক্ত আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা আংশিক স্বীকার করে বলেন, “ওই পরিবারের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা আমাকে আটকে রাখে।”

ডোমার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ বলেন, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যরা ওই পুলিশ সদস্যকে রাত পর্যন্ত আটকে রাখেন। পরে পুলিশ এসে মুচলেকা নিয়ে তাকে নিয়ে যায়।

নীলফামারী পুলিশ লাইনসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আরআই) মো. বদিউজ্জামান জানান, শুক্রবার রোল কলে আতিকুর অনুপস্থিত ছিলেন। শনিবার সকালে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন। ডোমার থানা পুলিশ তাকে উদ্ধারের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের বৈঠক

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ...

জ্বালানি সংকটে আংশিক বা পুরো বন্ধ ৬৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র

দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি অব্যবহৃত রয়েছে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার ২৭০ মেগাওয়াট হলেও সর্বোচ্চ...

Related Articles

‘বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায়, ট্রল করে’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক...