নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর স্থানীয় নেতা জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি শেখ সিফাতকে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আদালত প্রাঙ্গণে গণপিটুনি দিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের স্বজনেরা। রোববার দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার সময় এই নজিরবিহীন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারে শেখ সিফাতসহ সাত আসামির ১০ দিন এবং গ্রেপ্তার চার নারী আসামির ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরে প্রতিপক্ষের হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে খুন হন ইসলামী আন্দোলনের যুব সংগঠনের নেতা জাহিদ আল আমিন। এই ঘটনার পরদিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেয়ার পর অভিযুক্ত শেখ সিফাত সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে আলোচিত ‘পুষ্পা’ চলচ্চিত্রের চরিত্রের অনুকরণে চিবুকে হাত দিয়ে বিশেষ অঙ্গভঙ্গি করে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম নেয়।
রোববার দুপুরে আসামিদের আদালত ভবনে তোলার সময় শেখ সিফাতকে দেখতে পেয়ে আদালতে উপস্থিত নিহতের স্বজন ও সংগঠনের কর্মীরা চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পুলিশি নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেঙ্গেই ক্ষুব্ধ জনতা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন। এতে আদালত চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে সিফাতের পরনের পোশাক খুলে যায়। পরে পুলিশ অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করাকে কেন্দ্র করে আসামিদের সাথে জাহিদের বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরে তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের ওপর হামলা ও বিশৃঙ্খলার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জাহিদ হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে নিহতের দলীয় সহকর্মীরা।
Leave a comment