যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের তীব্র সামরিক সংঘাত এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক চরম ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সোমবার সকালে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৭ ডলারের ঘর স্পর্শ করতে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল সাড়ে আটটার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯২ দশমিক ০৩ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। অন্যদিকে মারবান ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১০৩ দশমিক ৩০ ডলার এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৯২৯ ডলারে নেমে আসে।
আন্তর্জাতিক রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়ে থাকে, কিন্তু চলমান উত্তেজনার ফলে এই রুট দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, সাধারণ সময়ে যেখানে ১০ দিনের গড়ে দৈনিক অন্তত ১৩টি বড় জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করত, সেখানে সাম্প্রতিক সংকটকালীন পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে এই সরবরাহজনিত তীব্র ঘাটতির শঙ্কা তেলের দামে বড় ধরনের ঝুঁকি যুক্ত করেছে।
তেল বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা ও জ্বালানি খাতের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের মূল্যের ব্যবধান আগামী দিনে আরও প্রসারিত হতে পারে। মূলত গত জুলাই মাসের পর থেকে তেলের বাজারে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক মূল্যবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে, যার ফলে সাধারণ ভোক্তা ও শিল্প উৎপাদন খাতে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
Leave a comment