মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামি নির্দিষ্ট আইনি সময়সীমা অর্থাৎ ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে তিনি আর সেই আইনি সুযোগ পাবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দণ্ডপ্রাপ্ত যেসব আসামি রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেননি, তাদের আর আপিল করার আইনি পথ খোলা নেই বলে সোমবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
গুম ও আন্তর্জাতিক অপরাধ সম্পর্কিত বিদ্যমান আইন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালের রায়ে বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি জব্ধ করার কৌশলগত বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত আদেশে দণ্ডপ্রাপ্ত যেসব আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট কোন আইনি প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় হেফাজতে জব্দ বা অধিগ্রহণ করা হবে—সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলার সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করার পর যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো না হয় কিংবা তার আইনি লড়াই চালানোর অধিকার বা সুযোগ নিশ্চিত করা না হয়, তবে সেই অতিরিক্ত সময়টুকুকে সরাসরি ‘গুম’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ধরনের ঘটনাকে গুম প্রতিরোধ ও আইনি কাঠামোর আওতায় বিচারিক মূল্যায়নে আনা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর জোর দিয়ে বলেন, নবপ্রণীত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো ধরনের নীতিগত বা আইনি অসঙ্গতি তৈরি হবে না। দেশে সংঘটিত গুম সম্পর্কিত প্রাপ্ত সব রিপোর্ট, অভিযোগ ও তথ্য-উপাত্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গভীর নিরপেক্ষতায় এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করেই ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
Leave a comment