Home অর্থনীতি ড. ইউনূসের রেখে যাওয়া বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন আইসিইউ তে
অর্থনীতি

ড. ইউনূসের রেখে যাওয়া বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন আইসিইউ তে

Share
Prof Muhammad Yunus also recipient of the US Presidential Medal of Freedom and the Congressional Gold Medal
Share

ফারুক মেহেদী | নোবেলজয়ী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘থ্রি জিরো’ দর্শনের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করলেও, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে নানা মহলে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বের শেষে তিনি দেশকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও নাজুক পরিস্থিতিতে রেখে গেছেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বক্তৃতায় বিশ্ব বদলের স্বপ্ন দেখানো যত সহজ, বাস্তবে একটি দেশের অর্থনীতি সামাল দেওয়া ততটাই কঠিন—আর সেই পরীক্ষায় তিনি সফল হতে পারেননি।

সমালোচকদের দাবি, তাঁর শাসনামলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণের রেকর্ড বৃদ্ধি, বিনিয়োগের ঘাটতি, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সংলাপ না হওয়ায় আস্থার সংকট তৈরি হয় এবং বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া, বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি এবং উচ্চ সুদের কারণে নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দেয়। একই সময়ে ডলার সংকট, জ্বালানি ঘাটতি এবং শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। বিদেশি ক্রেতাদের একটি অংশ অর্ডার অন্য দেশে সরিয়ে নেয়, ফলে রপ্তানি খাতেও চাপ তৈরি হয়। পাশাপাশি কর আদায়ে ঘাটতি, আমদানি কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এদিকে কিছু বিতর্কিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি ও অবকাঠামোগত সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, এসব চুক্তির কিছু শর্ত দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নীতিগত স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে বন্দর ব্যবস্থাপনা ও আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালকে অনেকেই প্রত্যাশা ও বাস্তবতার বড় ব্যবধান হিসেবে দেখছেন। যদিও তাঁর সমর্থকরা মনে করেন, তিনি সংস্কারের একটি ভিত্তি তৈরি করে গেছেন, তবে সমালোচকদের মতে, এর মূল্য হিসেবে দেশের অর্থনীতি বড় চাপের মুখে পড়েছে। এখন চ্যালেঞ্জ হলো—এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে অর্থনীতিকে আবার স্থিতিশীল পথে ফিরিয়ে আনা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

জাপানের পর এবার নেপালেও নিষিদ্ধ ভারতের আম

খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগের কারণে ভারত থেকে আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নেপাল। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু আমের চালানে অনুমোদিত মাত্রার...

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি, আগাম প্রস্তুতির কথা জানাল সিসিক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরভবন প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে...

Related Articles

শেয়ারবাজারের ‘ডাস্টবিনে’ রহস্যময় লেনদেন, আলোচনায় হিরু-সাকিবের কোম্পানি

শেয়ারবাজারের ওভার-দ্য-কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘ডাস্টবিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কারণ,...

চাকরির স্বপ্ন অপূর্ণ, উদ্যোক্তা হয়ে সফল মাহমুদা খুশি

মো. গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী প্রতিনিধি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার একটি সাধারণ গ্রামে বেড়ে...

নিউজিল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্য আমদানি বাড়ানোর আহ্বান

রাজধানীর খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রোববার খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর সঙ্গে...

নতুন বাজেটে নিত্যপণ্যে বাড়তি করের আশঙ্কা, বাড়তে পারে জনভোগান্তি

কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুত করছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে...