মো. গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার একটি সাধারণ গ্রামে বেড়ে ওঠা মাহমুদা খুশির স্বপ্ন ছিল চাকরি করে নিজের পরিচয় গড়ে তোলা। পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের উপার্জনে বাবা-মায়ের জন্য কিছু করার ইচ্ছা ছিল তাঁর ছোটবেলা থেকেই। তবে জীবনের বাস্তবতা তাঁকে অন্য পথে নিয়ে যায়। চাকরির স্বপ্ন পূরণ না হলেও উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়।
মাহমুদা খুশির জন্ম ১৯৯০ সালে। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন চঞ্চল ও প্রাণবন্ত। গ্রামের পথঘাটে সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়ানো কিংবা গাছে চড়ে সময় কাটানো ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। কৈশোর থেকেই তিনি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।
বিয়ের পর পারিবারিক নানা কারণে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি মাহমুদা। তবে নিজের কিছু করার ইচ্ছা থেকে সরে আসেননি। বরং সেই স্বপ্ন পূরণের নতুন পথ খুঁজতে শুরু করেন। একসময় উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তবে এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। শুরুতে নানা বাধা, সমালোচনা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। অনেকেই তাঁর উদ্যোগকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু মাহমুদা খুশি হাল ছাড়েননি। ধৈর্য, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে তিনি এগিয়ে গেছেন নিজের লক্ষ্যের দিকে।
গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য নিয়ে ব্যবসা করছেন। তাঁর পণ্যের মধ্যে রয়েছে খেজুরের গুড়, আম, কুমড়ার বড়ি, ঘি এবং বিভিন্ন দেশীয় খাদ্যসামগ্রী। বিশেষ করে খেজুরের গুড় ও রাজশাহীর আম বিক্রির মাধ্যমে তিনি ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছেন।
মাহমুদা খুশি বলেন, “আমি সব সময় সততার সঙ্গে ব্যবসা করার চেষ্টা করেছি। ক্রেতাদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, এ কারণে অনেক নিয়মিত ক্রেতা পেয়েছি। তাঁদের ভালোবাসা ও আস্থাই আমাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।”
বর্তমানে মাহমুদা খুশি শুধু একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, তিনি অনেক নারীর জন্য অনুপ্রেরণার নাম। চাকরির মাধ্যমে যে স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলেন, উদ্যোক্তা জীবন তাঁকে সেই স্বপ্নের নতুন রূপ দিয়েছে।
তাঁর বিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও সততা থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। মাহমুদা খুশির এই পথচলা দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।
Leave a comment