Home আঞ্চলিক ডিজেল সংকটে ইরি-বোরো চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
আঞ্চলিক

ডিজেল সংকটে ইরি-বোরো চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

Share
Share

এমরান হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধি | জামালপুরের সাতটি উপজেলায় ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন তেলের পাম্প ও খুচরা দোকানে ঘুরেও কৃষকরা প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে কৃষকদের জন্য তেল পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমির ইরি-বোরো ধান চাষ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। ফলে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে। জেলায় বিদ্যুৎচালিত ১৯ হাজার ৭০০টি এবং ডিজেলচালিত প্রায় ৩৬ হাজার সেচ পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিন সেচ পাম্পের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৭০৩টি। এসব শ্যালো ইঞ্জিনের মাধ্যমে প্রায় ৪৪ হাজার ২৩৪ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলার কৃষক চাঁন মিয়া বলেন, “সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান করেছি। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় ফসল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ডিজেলনির্ভর অন্যান্য ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পগুলোর অবস্থাও ভালো না।

সরিষাবাড়ী উপজেলার চুনিয়াপটল গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবহান বলেন, “প্রতিদিন পাম্পে ঘুরছি, টাকা দিয়েও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো দিন দিলে মাত্র ২ লিটার দেয়, অথচ আমার প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লিটার লাগে। ফলে সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছি না, ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

জামালপুর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস ছামাদ জানান, “দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান করেছি। নিজের একটি ডিজেলচালিত সেচ পাম্প আছে, যেটি দিয়ে আরও কয়েকজনের প্রায় ৬ বিঘা জমিতে সেচ দিতে হয়। কিন্তু ডিজেল সংকটে পাম্প প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সারাদিন ঘুরেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, জেলায় প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ জমিতে বিদ্যুৎনির্ভর এবং বাকি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ জমিতে ডিজেলনির্ভর ইরি-বোরো চাষ হয়।

তিনি বলেন, এই সময়ে ধানক্ষেতে নিয়মিত সেচ প্রয়োজন। কৃষকরা তেলের জন্য পাম্পে গেলেও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। বিষয়টি সত্য যে, তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। কীভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলার মাধ্যমে তেল বিক্রি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে কৃষকদের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

রামেক হাসপাতালে যুক্ত হলো আধুনিক ‘বায়োফায়ার ফিল্মঅ্যারে’ মেশিন

মো. গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর রোগীদের দ্রুত রোগজীবাণু শনাক্ত এবং উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচন সহজ করতে ‘বায়োফায়ার ফিল্মঅ্যারে’...

স্বেচ্ছাশ্রমে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক সংস্কার করল সংগঠন ‘প্রিয় সলঙ্গার গল্প’

আবু হানিফ, সিরাজগঞ্জ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে খানা-খন্দে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া একটি সড়ক স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রিয় সলঙ্গার...

Related Articles

গোমস্তাপুরে চোরাই মালামাল, হেরোইন ও মাদকসেবীসহ ১৩ জন আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় বিশেষ অভিযানে চোরাই গাড়ির যন্ত্রাংশ, হেরোইন ও বৈদ্যুতিক তার...

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে কোরবানির মাংস নিয়ে শিশুদের বনভোজন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে শিশু শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে বনভোজনের...

রাজশাহীতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সুন্দর নগর গড়ার আহ্বান

মো. গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী রাজশাহী মহানগরের মতিহার থানার কাজলা ফুলতলা নদীতীর পর্যটন...

রাঙামাটিতে সাবেক পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমাকে আটকের দাবি

সর্বজিৎ চাকমা, রাঙামাটি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমাকে রাঙামাটি...