চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়ের ৪০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ রোববার। ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রের ৪ নম্বর চুল্লি বিস্ফোরিত হয়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার জন্ম দেয়।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় ৩৫ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রায় ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দূষিত হয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয়তা শুধু আশপাশের অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে দীর্ঘস্থায়ী পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
এই ভয়াবহ ঘটনার পর পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হলেও চার দশক পর পরিস্থিতি আবার বদলাতে শুরু করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ৩১টি দেশে ৪০০টিরও বেশি পারমাণবিক চুল্লি সচল রয়েছে এবং আরও প্রায় ৭০টি চুল্লি নির্মাণাধীন। মোট বৈশ্বিক বিদ্যুতের প্রায় ১০ শতাংশ এখন পারমাণবিক শক্তি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে পারমাণবিক শক্তি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এর নির্মাণ ও পরিচালনা ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কমেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেন, চেরনোবিল ও ২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্ঘটনার কারণে পারমাণবিক শক্তির অগ্রগতি কিছু সময়ের জন্য ধীর হয়ে গেলেও বর্তমানে এর পুনর্জাগরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার মতে, “পারমাণবিক শক্তি আবারও শক্তভাবে ফিরে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ায় পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকারী দেশ, যেখানে ৯৪টি চুল্লি চালু রয়েছে এবং বৈশ্বিক পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রায় ৩০ শতাংশ উৎপাদন করে। দেশটি ২০৫০ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা চার গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে।
অন্যদিকে চীন ৬১টি চুল্লি পরিচালনা করছে এবং প্রায় ৪০টি নতুন চুল্লি নির্মাণাধীন রয়েছে। পারমাণবিক সক্ষমতায় বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে যেতে দেশটি দ্রুত সম্প্রসারণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চেরনোবিলের ভয়াবহতা বিশ্বকে একসময় সতর্ক করলেও বর্তমান জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে পারমাণবিক শক্তি আবারও বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
Leave a comment