গাজীপুরের টঙ্গীতে ঘুমন্ত অবস্থায় কলেজ পড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে হত্যার পর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবা। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত কলেজ ছাত্রের নাম সাকিব (১৮)। তিনি উত্তরা দক্ষিণ এলাকার একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে তার বাবা ও অভিযুক্ত সোহেল (৫০) পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের মা মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকরিতে যোগ দেন এবং অভাবের সংসারে বাবাকে সব ধরনের সহযোগিতা করতেন। তবে বাবা সোহেল দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শনিবার গভীর রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সোহেল তার ঘুমন্ত ছেলে সাকিবের হাতের রগ কেটে দেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বিছানাতেই সাকিবের মৃত্যু হয়। ছেলেকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে অনুশোচনা বা ভয়ে সোহেল বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর নিকটস্থ রেললাইনে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবনাবসান ঘটান।
খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ এবং রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী নেশাগ্রস্ত বাবা তার সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
Leave a comment