ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানে গৃহহীন হয়ে গাজা উপত্যকাজুড়ে বাস্তুচ্যুত ২১ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনধারণের ন্যুনতম সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত এসব মানুষের মধ্যে ৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বসবাসের অযোগ্য অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছে গাজা সরকারি মিডিয়া অফিস।
সোমবার এক জরুরি সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, আগামীতে শীত ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে গাজা উপত্যকায় এক ভয়াবহ অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অস্থায়ী ও জরাজীর্ণ তাঁবুগুলোতে চরম ঝুঁকিতে বসবাস করছে পাঁচ লাখেরও বেশি কোমলমতি শিশু। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় অবিলম্বে ভারী ক্রেন, আবহাওয়া-সহনশীল টেকসই তাঁবু, ইনসুলেশন সামগ্রী এবং জরুরি আশ্রয় উপাদান প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ওপর বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও ত্রাণ দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে যে, চলমান অব্যাহত সামরিক অভিযানের কারণে অবরুদ্ধ গাজার সাধারণ নাগরিকরা চরম খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে দিন কাটাচ্ছেন। একই সাথে ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা বিমান ও স্থল হামলায় গাজা উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া সমগ্র গাজা উপত্যকা নতুন করে পুনর্নির্মাণ করতে আনুমানিক ৭ হাজার কোটি (৭০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে।
Leave a comment