রাজধানীর মহাখালীতে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী সিমির মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, জোরপূর্বক মাদক সেবন করিয়ে সিমিকে দিনের পর দিন ধর্ষণ, পাশবিক নির্যাতন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের পেছনে একই বাসায় সাবলেট থাকা সাইদুর-টুম্পা দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনেরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে ভবনের কেয়ারটেকারের মাধ্যমে দুই সন্তানসহ সাইদুর ও টুম্পা দম্পতি ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ভাড়া ওঠেন। পরবর্তীতে মে মাসের শুরুতে তাঁরা বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই সিমির মানসিক ও শারীরিক ব্যবহারে চরম অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। স্বজনদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে সিমি তার ওপর ঘটে যাওয়া দীর্ঘদিনের শারীরিক নির্যাতন ও হুমকির বিভীষিকাময় বিবরণ প্রকাশ করে।
নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার কথা জানতে পেরে সিমি ও তার মাকে নিয়ে স্বজনেরা তাৎক্ষণিকভাবে বনানী থানায় গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিস্তারিত অবগত করেন। কিন্তু পুলিশ কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপে না নিয়ে পরদিন থানায় আসার কথা বলে পরবর্তীতে তাদের এড়িয়ে যায়। পরিশেষে গত ১৫ জুলাই মহাখালীর ষষ্ঠ তলার নিজ কক্ষে মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অবুঝ কিশোরীটি।
তবে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে বনানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার পূর্বে এমন কোনো মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ নিয়ে কেউ তাদের কাছে আসেনি। বর্তমানে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হস্তগত হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
Leave a comment