পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত দুই দিনে রাজ্য সরকারের ব্যাপক দমন-পীড়নের শিকার হয়ে অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনরত জনতার ওপর সামরিক ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়ে অন্তত ৩০ জনকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে একটি স্থানীয় সামাজিক সংগঠন।
নাগরিক অধিকার বিষয়ক জোট ‘জয়েন্ট অ্যাওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-এর তথ্যমতে, গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আদায় এবং নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে হাজার হাজার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীর ওপর হামলা চালায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এতে সোমবার ২৫ জন এবং মঙ্গলবার আরও ৫ জন মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অঞ্চলজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অনতিবিলম্বে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্বহালের তীব্র আহ্বান জানিয়েছে।
জেএএসি-এর মুখপাত্র এস এ খান গুরুতর অভিযোগ তুলে জানান, মিরপুর এলাকায় নিরপরাধ ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি নিরাপত্তা বাহিনী; বরং হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়ে রাস্তা থেকে লাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যাতে হত্যার কোনো প্রমাণ না থাকে। তবে তাদের কাছে রক্তে ভেসে যাওয়া লাশের ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার এই বেসামরিক হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতা তারার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, কাশ্মীরের এই বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ভারত অর্থ ও ইন্ধন জোগাচ্ছে। তবে জেএএসি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই সরকার অধিকার আদায়ের যেকোনো দাবিকে বিদেশি চক্রান্ত হিসেবে অ্যাখ্যা দেয়। অঞ্চলটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি না থাকায় হতাহতের মূল সংখ্যা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
Leave a comment