গাইবান্ধায় উচ্চ মুনাফা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে ‘তিশা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি কথিত এনজিওর কর্মকর্তারা। এতে জেলার শতাধিক গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করলে ১ লাখ টাকা এবং ১ লাখ টাকায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করত সংস্থাটির কর্মকর্তারা। সহজ শর্তে বড় অঙ্কের ঋণ পাওয়ার আশায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার অন্তত ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে টাকা জমা দেন।
নির্ধারিত সময়ে ঋণ নিতে গিয়ে গ্রাহকেরা দেখেন, এনজিওটির কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। কর্মকর্তারাও অফিস ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর থেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন শহরের সবুজপাড়ার ব্যবসায়ী রতন মিয়া। তিনি জানান, গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের সুখ শান্তির বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘তিশা ফাউন্ডেশন’-এর কর্মকর্তারা ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিলে ১ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এই আশ্বাসে তিনি ৯২ হাজার টাকা জমা করেন। তাঁর মতো আরও অনেকেই ঋণের আশায় সেখানে সঞ্চয় জমা রাখেন।
ঋণ দেওয়ার নির্ধারিত তারিখে অফিসে গিয়ে তাঁরা দেখেন, কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। পরে সেখানে উপস্থিত অন্যান্য গ্রাহকদের কাছ থেকে জানতে পারেন, একই কৌশলে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কোটি টাকা সংগ্রহ করে পালিয়ে গেছে চক্রটি।
এক ভুক্তভোগীর স্বজন ইমরান হোসেন বলেন, “যার ভবনে অফিস ভাড়া নেওয়া হয়েছিল, তিনি সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা। অথচ তিনি নাকি তাদের সঠিক পরিচয় জানেন না। এত বড় ক্ষতির দায় এখন কে নেবে?”
এ বিষয়ে জানতে ‘তিশা ফাউন্ডেশন’-এর ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জসিম মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
Leave a comment