ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার ২ নম্বর আসামি মেহেদী হাসান মঞ্জু ওরফে মঞ্জুরুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল উপজেলার কাজীশিমলা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই মুকুল সরকার, এএসআই শাহ আলম, কাঞ্চন মিয়া ও মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের রামগোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের (৫৯) জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১ মে শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশে জমিতে অবস্থানকালে আবুল খায়ের ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়। এতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। তাঁদের প্রথমে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওই মামলায় মেহেদী হাসান মঞ্জু ওরফে মঞ্জুরুল হককে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া খায়রুল ইসলাম রতন, মাসুদ মিয়া ও শহিদ মিয়াসহ আরও কয়েকজনের নাম এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, মঞ্জু ও তাঁর ভাই রতনের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, দুই ভাইয়ের কর্মকাণ্ডে এলাকার একটি অংশের মানুষ অতিষ্ঠ।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি মঞ্জুকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ত্রিশালের কাজীশিমলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
Leave a comment