ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি আগামী জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে আরও প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক বিশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বে অনাহারীর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রু সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক মাসে অন্তত ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে মানবিক সহায়তা সরবরাহের প্রধান রুটগুলো বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিশ্বের সংকটাপন্ন অঞ্চলগুলোতে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছাতে ব্যাপক বিলম্ব হচ্ছে। লজিস্টিক জটিলতায় ত্রাণবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মানবিক বিপর্যয় আরও তীব্র হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
ডব্লিউএফপির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্য এবং জাহাজ পরিবহনের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সংস্থাটির উপনির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ জানিয়েছেন, শুধু জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই অতিরিক্ত ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে বিশ্বে মোট ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বর্তমানের রেকর্ড ৩১ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ ভাড়া প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। পাশাপাশি দাতা দেশগুলো মানবিক সহায়তার পরিবর্তে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর ফলে ডব্লিউএফপির বাজেটে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে সংস্থাটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগেই বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা চরম সংকটে ছিল। তবে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। ইউএনডিপি প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হলেও এর প্রভাব দ্রুত কাটবে না। কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট আরও গভীর হবে এবং তা নিয়ন্ত্রণের খুব কম সুযোগ থাকবে।
তিনি আরও জানান, মাত্র আট সপ্তাহের এই সংঘাতে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় ০.৫ থেকে ০.৮ শতাংশ ক্ষতি ইতোমধ্যে হয়েছে, যা কয়েক দশকের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে প্রভাবিত করেছে।
Leave a comment