জীবিকার তাগিদে মাত্র ১৯ বছর বয়সে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর প্রবাসে। টানা এক দশকের অমানুষিক পরিশ্রম শেষে দেশে ফিরে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার কথা ছিল তাঁর। বিয়ে করে সংসারী হওয়ার সব প্রস্তুতিও প্রায় শেষ এনেছিল পরিবার। তবে একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা মুহূর্তের মধ্যেই চুরমার করে দিল সব স্বপ্ন ও আয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাকের রাজধানী বাগদাদে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিভে গেছে চুয়াডাঙ্গার যুবক রেজাউল ইসলামের প্রাণ।
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলের দিকে। দেশটির রাজধানী বাগদাদের ব্যস্ততম আল-মনসুর এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত অবস্থায় রান্নাঘরের একটি ওভেন বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ২৯ বছর বয়সী রেজাউলের। অকালপ্রয়াত এই প্রবাসী যুবক চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মৃগমারী (সরকারপাড়া) গ্রামের রহিম হুজুরের ছেলে।
জানা গেছে, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ওই একই রেস্তোরাঁয় অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে আসছিলেন রেজাউল। শিগগিরই ছুটি নিয়ে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার চূড়ান্ত পরিকল্পনা ছিল তাঁর। পরিবারও তাঁকে বরবেশে বরণ করে নিতে বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা গুছিয়ে আনছিল। তবে সহকর্মীদের কাছ থেকে আসা একটিমাত্র শোকসংবাদ নিমিষেই পুরো পরিবারকে ঠেলে দেয় এক গভীর ও অন্ধকার বেদনায়।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে পুরো গ্রামজুড়ে এখন নেমে এসেছে শোকের মাতম। যে ছেলেকে ফুল দিয়ে বরণ করার প্রস্তুতি চলছিল, আজ তাকেই কফিনবন্দী অবস্থায় দেখার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাকরুদ্ধ পুরো পরিবার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের বাবা আকুতি জানিয়ে বলেন, সন্তানের মুখটি অন্তত শেষবারের মতো দেখতে চান তিনি। প্রবাসে প্রাণ হারানো এই যুবকের মরদেহ দ্রুত সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহায়তা দাবি করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
Leave a comment