গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তার কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের কার্যক্রমের সূচনা হবে। প্রথম দিনেই তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় গুলশানের বাসভবন থেকে সাভারের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার সূচনায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে শাসন কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
সাভার থেকে ঢাকায় ফিরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া-এর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এই সমাধিস্থলে দলীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচি দলীয় ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার বার্তা বহন করে। নতুন সরকারের সূচনালগ্নে দলীয় নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংহতির ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
দিনের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিকেলে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে সরকারের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা, অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সূত্র বলছে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার, নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো প্রাথমিক আলোচনায় স্থান পেতে পারে। নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণী দিকনির্দেশনার একটি কাঠামোও এই বৈঠকে নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর একদিন আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করে। শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি এবং অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ অন্তত ১৩টি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ভারতের পক্ষ থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওম বিড়লা।
এছাড়া বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
Leave a comment