ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর তীব্র গুঞ্জনের মধ্যে সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য দেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সম্ভাব্য যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং যুদ্ধ শুরু হলে তার উপযুক্ত জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ বাধার সম্ভাবনাকে আমরা কোনোভাবেই উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের সামরিক অস্ত্র আধুনিকায়ন করেছি, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং নতুন প্রযুক্তির অস্ত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে আমাদের সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার কথা স্বীকার করে এই শীর্ষ কূটনীতিক স্পষ্ট করে জানান, মার্কিন চাপের কাছে ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। তারা নিজেদের সক্ষমতা ও শক্ত অবস্থান বজায় রেখে এই সংকটময় সময় পার করবে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদের সরাসরি আলোচনার খবরকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, কাতারে আলোচনা চললেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংলাপের প্রশ্নই আসে না।
উল্লেখ্য, আগামী ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে জোর গুঞ্জন চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা মানা ছাড়াই মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে তাৎক্ষণিক ও সর্বাত্মক পাল্টা হামলা চালানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
Leave a comment