Home আন্তর্জাতিক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ওপর কেন ক্ষেপল মোদি সরকার
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ওপর কেন ক্ষেপল মোদি সরকার

Share
Share

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টেক্সাসের হিউস্টনে এক যৌথ সমাবেশে ৫০ হাজারের বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকের সামনে মোদি বলেছিলেন, ট্রাম্প উষ্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ, প্রাণবন্ত এবং রসবোধসম্পন্ন একজন মানুষ।

ঘটনাটি ছিল ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য তখন বড় পরীক্ষার মুখে ছিলেন ট্রাম্প। হিউস্টনের ওই সমাবেশে মোদি কার্যত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয়দের মধ্যে ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন জোগাড়ে ভূমিকা রাখেন। নিজের নির্বাচনী প্রচারের জনপ্রিয় স্লোগান ধার করে তিনি বলেছিলেন, ‘আব কি বার, ট্রাম্প সরকার!’ হিন্দি এ স্লোগানের অর্থ, ‘এবার ট্রাম্প সরকার’। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে হেরে যান ট্রাম্প।

সাত বছর পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। এ নির্বাচনে কংগ্রেসে তাঁর দলের আসন কমে যেতে পারে, যা আইন প্রণয়নের পরিকল্পনায় বাধা তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের সমীকরণও পাল্টে গেছে।

এখন আর ট্রাম্পের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছে না ভারত। বরং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একের পর এক টানাপোড়েনের মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনায় সরব হয়েছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দল আসন হারালে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব কিছুটা কমতে পারে। এতে মোদি সরকার স্বস্তি পেতে পারে।

স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত

ওয়াশিংটনে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেয়ে আসছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে নয়াদিল্লির কৌশলগত মহল রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের আমলে বেশি স্বস্তি বোধ করেছে।

স্নায়ুযুদ্ধের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন গতি আসে। মস্কোর সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে কয়েক দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে যে অবিশ্বাস ছিল, তা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এরপর ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঐতিহাসিক বেসামরিক পরমাণু চুক্তি হয়। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়া সত্ত্বেও ভারত বৈশ্বিক পরমাণু প্রযুক্তি ও জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ পায়। বুশের আমলে দুই দেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তিও করে। এর আওতায় মার্কিন জাহাজ ও উড়োজাহাজকে ভারতের সামরিক ঘাঁটিতে জ্বালানি নেওয়া এবং অন্যান্য রসদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের প্রশাসনকে ভারত প্রায়ই নিজেদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বেশি সমালোচনামুখর বলে মনে করেছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে মনে হয়েছিল। ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতাও ছিল। এমনকি ট্রাম্পকে ভারতের ‘হোয়াইট হাউসে সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ বলেছিলেন মোদি।

কিন্তু ভারতের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসন সম্পূর্ণ আলাদা। পরিস্থিতি এতটাই বদলেছে যে দীর্ঘদিনের একটি কূটনৈতিক চর্চা থেকে সরে এসেছে নয়াদিল্লি। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে মতবিরোধের বিষয়গুলো সাধারণত পর্দার আড়ালে আলোচনা করে ভারত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে চলা টানাপোড়েনের কারণে এবার হোয়াইট হাউসের সমালোচনায় প্রকাশ্যেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটি।

গত মাসে নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘সন্ত্রাসবাদ’ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন সংবেদনশীল আচরণ করেনি। বরং ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি নিজেদের স্বার্থকেন্দ্রিক বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করেছে, যার অসামঞ্জস্যপূর্ণ চাপ পড়েছে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর ওপর।

জয়শঙ্কর বলেন, দেশগুলোর এতটা আত্মকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয় যে তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দেশের মানুষের জীবন কঠিন করে তুলবে, অথচ বলবে—এটি তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

দুই দেশের মধ্যে বড় বিরোধের একটি কারণ বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা। চুক্তিটি হলে ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম ভারত কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেন, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখান থেকে আর ছাড় দেওয়া বা নেওয়া কঠিন হতে পারে।

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলন থেকেও প্রায়ই ভারতীয় ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের নিশানা করা হয়েছে। অভিযোগ তোলা হয়েছে, এইচ-১বি ভিসার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছেন। মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভারতবিরোধী বক্তব্য বেড়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন অনেক অনথিভুক্ত ভারতীয় অভিবাসীকে হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে দেশে ফেরত পাঠায়। এ দৃশ্য ভারতে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের দক্ষিণ এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক মিলান বৈষ্ণব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রশাসনের সঙ্গে প্রকৃত নীতিগত মতপার্থক্য ভারত সরকার সহ্য করতে পারে। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অনেক মিত্রের কাছ থেকে ভারত ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে যেসব আক্রমণ আসছে, তা স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত করেছে।

বৈষ্ণবসহ কয়েকজন বিশ্লেষক আল-জাজিরাকে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নয়াদিল্লি থেকে সমালোচনা এলেও প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষেত্রে মোদি সরকার সংযম দেখিয়েছে।

‘অবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে’

২০২৫ সালে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে একের পর এক সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্ক আরোপ, বাণিজ্য আলোচনা থমকে যাওয়া, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনা বন্ধে ওয়াশিংটনের চাপ এবং ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার দাবি। নয়াদিল্লি ট্রাম্পের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এ ছাড়া ‘সন্ত্রাসবাদ’ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের মধ্যেও পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা, এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধি এবং অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপও দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে।

একপর্যায়ে ট্রাম্পের আরোপ করা সবচেয়ে বেশি শুল্কের মুখে পড়া দেশগুলোর একটি হয়ে ওঠে ভারত। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। এরপর দ্রুত বিকল্প পদক্ষেপ নেয় তাঁর প্রশাসন। এর মধ্যে ছিল বিশ্বজুড়ে পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ।

গত মাসে ট্রাম্প এমন একটি আইনে সই করেন, যার আওতায় রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ স্থগিত রাখেন তিনি। একই সঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে মস্কোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র মুম্বাই সফর করেন। তবে তিনি রাজধানী নয়াদিল্লি যাননি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, এসব শুল্কের কোনোটিই ভারতকে শাস্তি দেওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়নি।

রুবিওর যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির হিসাব-নিকাশে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও জড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার অন্যতম কারণ হলো, ওই পদক্ষেপে ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত।

তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের পদক্ষেপ আবার নেওয়া হতে পারে—এ সম্ভাবনা নাকচ করেননি রুবিও। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছেন, তবে এটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ব্রাসেলসভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রবীণ ডনথি আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটনে ভারত নিয়ে দুই দলের মধ্যে যে ঐকমত্য ছিল, তা যেন শেষ হয়ে গেছে।

ডনথির মতে, ওয়াশিংটনের এ মনোভাব শুধু ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অবস্থান নয়; বরং মার্কিন নীতিনির্ধারক মহলের সামগ্রিক মনোভাবের প্রতিফলন। ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপগুলো ভারতের কৌশলগত মহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পুরোনো অবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে। এ অবিশ্বাসের শিকড় স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার উত্তেজনায়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কি ট্রাম্পের দাপট কমবে

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর মেয়াদের শেষ দুই বছরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রশাসনের নীতি ও কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এ যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কম জনসমর্থনের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের মিলান বৈষ্ণব বলেন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব কিছুটা কমলে তা ভারতের স্বার্থের অনুকূলে যেতে পারে। তাঁর মতে, কংগ্রেসে অনেক ডেমোক্র্যাট, এমনকি রিপাবলিকানও আছেন, যাঁরা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ। তাঁদের ভারতীয় রাজনীতি, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে। তবে তাঁরা শক্তিশালী ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্বে বিশ্বাস করেন।

বৈষ্ণবের মতে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য থাকলে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য আনার প্রভাব পড়তে পারে।

তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অন্তত ভারতের ক্ষেত্রে এমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন তিনি।

কুগেলম্যান বলেন, ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করছেন। আইন অনুযায়ী, তিনি তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তাই নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি এমন নীতিই অনুসরণ করবেন, যা তাঁর বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ সবচেয়ে ভালোভাবে এগিয়ে নেবে। ভারতের ওপর আরও শুল্ক আরোপের হুমকি দিলে সেই স্বার্থ এগিয়ে যাবে বলে মনে করলে তিনি তা-ই করবেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রবীণ ডনথি বলেন, ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার পর ভারত আশা করবে, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে এবং ওয়াশিংটন আরও ধৈর্যশীল ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোবে। তবে মধ্যবর্তী সময়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লেও ভারত যে স্বস্তি পাবে, তা নিশ্চিত নয়। কারণ, ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকানদের মধ্যে ভারতকে চাপে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বৃহত্তর ঐকমত্য রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

নয়াদিল্লির কাছে এ পরিস্থিতি কয়েক বছর আগের অবস্থার তুলনায় বড় পরিবর্তন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ের কয়েক দিন পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছিলেন, ‘আজ যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে অনেক দেশই উদ্বিগ্ন। তবে খোলাখুলি বললে, আমরা (ভারত) তাদের মধ্যে নেই।’

আজ সেই হাসি আর নেই।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

কুমিল্লায় প্রাইভেট কার থেকে ২৪ কেজি গাঁজা জব্দ, আটক ২

মো. ইয়াছিন সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লায় একটি প্রাইভেট কার তল্লাশি করে ২৪ কেজি গাঁজা ও তিনটি মুঠোফোন জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড...

সলঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

  সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার বেলা ১১টায় সলঙ্গা থানা খেলার মাঠে...

Related Articles

১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে লন্ডন পুলিশ

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য...

পুতিনের কারণে কোনো সীমান্ত বা সরকারই নিরাপদ নয়, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সতর্কবার্তা যুক্তরাজ্যের

রাশিয়ার আগ্রাসী নীতি অব্যাহত থাকলে ইউরোপের কোনো সীমান্ত বা সরকারই নিরাপদ থাকবে...

২৭৭ কেজি গোমাংস উদ্ধার মামলায় গুজরাটে তিনজনের যাবজ্জীবন

  গরুর ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে হিন্দু শাস্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়েছেন আদালত। এমন...

পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাই হলে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না: শুভেন্দু অধিকারী

  পশ্চিমবঙ্গে গোহত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত এলাকায় জাতীয়তাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর...

;