নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বিতর্কিত ইসলামি বক্তা ইয়াহায়া মাসুসুকাকে (৪৭)। মৃত্যুর পর কবরে দুই ফেরেশতার প্রশ্ন করার প্রচলিত ইসলামি বিশ্বাস নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় তিনি আলোচনায় ছিলেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় নাইজেরিয়ার কাতসিনা রাজ্যের দুতসিন মা শহরে নিজের বাড়ির সামনে অতিথিদের বিদায় জানাচ্ছিলেন মাসুসুকা। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এ ঘটনায় তাঁর এক অতিথিও গুলিবিদ্ধ হন।
পরে দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসুসুকাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তিনি নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে ইসলামের প্রচলিত কিছু বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন।
মাসুসুকা মূলত পবিত্র কোরআনের ভিত্তিতে ধর্মীয় বক্তব্য দিতেন। হাদিসের কিছু বর্ণনা নিয়েও প্রশ্ন তুলতেন তিনি। বিশেষ করে মৃত্যুর পর কবরে দুই ফেরেশতা এসে মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেন—ইসলামে প্রচলিত এই বিশ্বাস তিনি মানতেন না।
হাদিসসহ ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর অবস্থানের কারণে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সম্মানিত ইসলামি পণ্ডিতদের উপহাস করার অভিযোগে তাঁকে নয় মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল।
১৩ বছর বয়সে কোরআন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন মাসুসুকা। পরে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ওমানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে নিজ বাড়িতে একটি স্টুডিও স্থাপন করে ধর্মীয় বক্তব্য রেকর্ড করতেন তিনি। এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হতো।
বিতর্কিত মতের জন্য পরিচিত হলেও সহিংস উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরোধিতা করতেন মাসুসুকা। নাইজেরিয়ায় মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে আন্তধর্মীয় সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে বক্তব্য দিতেন তিনি। এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর তাঁকে ‘পিস অ্যাম্বাসেডর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। পুরস্কারটি দেয় নেটওয়ার্ক ফর গুড গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি।
দুই স্ত্রী ও সাত সন্তানের জনক মাসুসুকা গত দুই দশকে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিহত হওয়া কয়েকজন পরিচিত মুসলিম ধর্মীয় বক্তার একজন।
এ অঞ্চলে ধর্মীয় বক্তাদের হত্যার ঘটনায় সশস্ত্র গোষ্ঠী বোকো হারামের সংশ্লিষ্টতার নজির রয়েছে। ২০০৯ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করা গোষ্ঠীটি তাদের মতাদর্শ ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনাকারী কয়েকজন ধর্মীয় বক্তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। বোকো হারাম পশ্চিমা সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নাইজেরিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থার বিরোধিতা করে এবং একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অনুসরণ করে।
নাইজেরিয়ায় কয়েক দশক ধরে জাতিগত ও ধর্মীয় সহিংসতা চলছে। গত ২৫ বছরে দেশটিতে হাজারো মুসলিম ও খ্রিষ্টান নিহত হয়েছেন।
Leave a comment