রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাকের পেছনে দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের সজোরে ধাক্কায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে পৌঁছেছে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন আপন ভাই-বোন রয়েছেন। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় বাসটির কমপক্ষে ১৮ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে নিহত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের তালুকদার পাড়ার বাসিন্দা মোজাফ্ফর রহমান (৪২) ও তাঁর বোন গোলাপী বেগম (৩৫), কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন এবং দুর্ঘটনা কবলিত খান পরিবহনের বাসের হেলপার আপেল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম উদ্দিন জানান, চারজন যাত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজের পর বৈরাগীগঞ্জ শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের বিপরীত পাশে মাজার মসজিদের সামনে একটি মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাক রাস্তার পাশে দাঁড়ানো ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীগামী ‘খান পরিবহন’ নামের যাত্রীবাহী বাসটি দ্রুতগতিতে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহত যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতদের পরিবার ও এলাকায়।
Leave a comment