স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে রাজধানী মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া যাওয়ার রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, টলেডো প্রদেশের উর্দা এলাকার কাছে একটি চলন্ত দ্রুতগতির ট্রেন পেছন থেকে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় দুই ট্রেনের কয়েকটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পাশের ঢালে পড়ে যায়।
আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও মানবিক ভুলের কথা জানিয়েছেন স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কম্পিউটার যোগাযোগব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার রেলপথের নিরাপত্তাব্যবস্থা সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরে লাল সংকেত থাকা সত্ত্বেও রেনফে পরিচালিত একটি ট্রেনকে চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় ২৩ মিনিট পর ট্রেনটির সঙ্গে আইরিও পরিচালিত আরেকটি ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার সময় দুই ট্রেনে ৫০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে আইরিওর ট্রেনে ১৪৭ জন এবং রেনফের ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন বলে স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হতাহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। রেল নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে আন্দালুসিয়াগামী রেল চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে শত শত পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মী, হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়োজিত রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে স্পেনের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছর স্পেনে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা বলে স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে দুটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছিলেন।
Leave a comment