কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া সোনা ও রুপার ওজন নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ১ হাজার ৪৪ ভরি সোনা এবং ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা পাওয়া গেছে। ওজনের হিসাবে সোনা ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম এবং রুপা ১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম।
গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দানবাক্সে পাওয়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রার হিসাব ও গণনার কাজ এখনো চলছে।
এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ট্রেজারি থেকে আনা নয়টি মাঝারি আকারের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে সোনা ও রুপার ওজন নির্ধারণের কাজ শুরু হয়।
পাগলা মসজিদে প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী নগদ অর্থের পাশাপাশি মানত হিসেবে সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের একটি উপকমিটি ওজন নির্ধারণের কাজ পরিচালনা করে। এতে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার সদস্য, রূপালী ব্যাংক ও জুয়েলারি সমিতির প্রতিনিধিরা সহায়তা করেন। পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। এ সময় জেলা প্রশাসন ও রূপালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, সোনা ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণের পর জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। আর পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া সোনা ও রুপা প্রকাশ্য নিলামে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। সে সময় আগের তিন বছরে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি সোনা ও ১৮৪ ভরি রুপা বিক্রি হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দানবাক্স খোলা হয়েছে ১৮ বার। বর্তমানে পাগলা মসজিদের মূল তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। এ ছাড়া অনলাইনে অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।
মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন, এতিমখানা পরিচালনা এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে এসব অর্থ ব্যয় করা হয়।
Leave a comment