চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সারবোঝাই দুটি ট্রাক আটকে চাঁদা দাবির মামলায় মো. আইয়ুব আলী (৪৫) নামের এক পুরস্কারজয়ী কৃষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ট্রাক দুটি আটকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে আইয়ুবের পরিবার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দাবি, কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পরে তাঁকেই চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সমুদ্র উপকূল এলাকায় সারবোঝাই ট্রাক দুটি আটকানোর পর আইয়ুব আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আইয়ুব আলী ২০২২ সালে নিচু জমিতে ‘সার্জন’ পদ্ধতিতে সবজি চাষ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এ জন্য তিনি জাতীয় কৃষি পুরস্কারও পেয়েছিলেন।
আইয়ুবের স্ত্রী বিবি ফাতেমার অভিযোগ, সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমানের নির্দেশে কার্যালয়ের দুই কর্মচারী তন্ময় ভট্টাচার্য ও শাহ আলম ফোন করে তাঁর স্বামীকে সারবোঝাই ট্রাক দুটি আটকাতে বলেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আইয়ুব ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁকেই চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন, আইয়ুব একজন সচেতন কৃষক। গুলিয়াখালী উপকূল দিয়ে অবৈধভাবে সার পাচারের তথ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষি বিভাগকে সহযোগিতা করে আসছেন।
কল্পনা রহমান বলেন, গুলিয়াখালী উপকূলীয় এলাকা সার পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিছুদিন আগে কোস্টগার্ডের সহায়তায় ওই এলাকা থেকে ৭৫০ ও ৬০০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ করা হয়েছিল। কৃষি বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যাওয়া একজন কৃষককে এভাবে চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে পাঠানো ঠিক হয়নি।
গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নিয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি দুই কর্মকর্তাকে থানায় পাঠানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
তবে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা ও আইয়ুব আলীর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, সারের মালিক দ্রুত বিচার আইনে আইয়ুব আলী ও আলমগীর নামের দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাক দুটি আটকে তাঁদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সারের মালিকের কাছে নিলামে কেনা সার পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র ছিল। ওই সার গুলিয়াখালী হয়ে সন্দ্বীপে নেওয়া হচ্ছিল। তাই কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল না।
আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ ও কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য—দুই পক্ষের বক্তব্যের বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a comment