মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে প্রচারাভিযান চালানো হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, কর্মসূচির আওতায় র্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। ‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে।
মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রচার-প্রচারণার মধ্যে কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। জেলা পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে।
১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যানসারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক হাসপাতালে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবল প্রশিক্ষণের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা সময়মতো শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। অর্থের অভাব ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।
ডেঙ্গু নিয়েও কথা
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু-পরবর্তী হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা বাড়ায় চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a comment