শরীয়তপুরের জাজিরায় বাড়ি থেকে বের হয়ে ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে সাবরিনা আক্তার শিমু (১৫) নামের এক কিশোরী। একদিকে কিশোরী মেয়ের কোনো হদিস না পাওয়া, অন্যদিকে চরম মানসিক দুশ্চিন্তা ও শোকে স্ট্রোক করে অকালেই প্রাণ হারিয়েছেন তার মা। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার করুণ আকুতি জানিয়ে এখন দিশেহারা পুরো পরিবার।
নিখোঁজ সাবরিনা আক্তার শিমু জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট এলাকার ডুবিসায়বর গ্রামের বাহাদুর দেওয়ানের মেয়ে।
পরিবার ও জাজিরা থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় শিমু। এরপর দিন গড়ালেও সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। সম্ভাব্য সব আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে পরবর্তীতে জাজিরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করে পরিবার।
এদিকে একমাত্র কনিষ্ঠ মেয়েকে হারিয়ে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন তার মা। সারাক্ষণ মেয়ের চিন্তায় কান্না ও দুশ্চিন্তা করতে করতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্ট্রোক করে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মেয়ের নিখোঁজ ও স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন বাবা বাহাদুর দেওয়ান বলেন, “মেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। সে কোথায় বা কেমন আছে কিছুই জানি না। মেয়ের আশায় থাকতে থাকতে আমার স্ত্রীও দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন। আমি শুধু আমার সন্তানকে ফেরত চাই। প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ, আমার মেয়েকে দ্রুত খুঁজে বের করে দিন।”
শিমুর বোন সারাহ সাবরিন জানান, নিখোঁজের পর একদিন অজ্ঞাত স্থান থেকে ফোন করে শিমু শুধু বলেছিল সে রংপুরে আছে। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। মেসেজ বা ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েও তার আর কোনো সাড়া মেলেনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ্ আহাম্মদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেয়েটির মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান রংপুরে শনাক্ত করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রেমঘটিত সম্পর্কের সূত্র ধরে এক যুবকের সঙ্গে সে বাড়ি ছেড়েছে।
ওসি আরও জানান, নিখোঁজের পর শিমু ফোনে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে বাড়িতে না ফেরার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। তবে সার্বিক ঘটনা ও মানবিক দিক বিবেচনা করে মেয়েটিকে দ্রুত উদ্ধার এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে পুলিশ।
Leave a comment