বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে বুধবার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। আগামী কয়েক দিন কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী এবং অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। একই সঙ্গে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমমধ্য ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে নিম্নচাপটি পশ্চিমমধ্য ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কাছে অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে এটি গভীর নিম্নচাপে শক্তিশালী হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
বুধবার রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। বৃহস্পতিবারও কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা ছড়িয়ে পড়লেও তা তুলনামূলকভাবে কমতে পারে। এরপর বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ায় দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহও কমে আসছে। সোমবার দেশের ২০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও মঙ্গলবার তা রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল।
মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রংপুরে, ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় শ্রীমঙ্গলে। সেদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলে শুরুতে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া তৈরি হতে পারে। পরে নিম্নচাপ শক্তিশালী হলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তেমনটাই দেখা যাচ্ছে।
নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও আপাতত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। তবে সিস্টেমটির গতিপথ ও শক্তি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় এলাকা ও নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Leave a comment