রাজধানী শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনে সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। নিহত মরিয়মের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, এই করুণ পরিণতির মূল প্ররোচক ও নেপথ্য খলনায়ক হলেন মরিয়মের মামা এবং এমপির গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। পরিবারকে জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং মানসিক নির্যাতনের কারণেই মরিয়ম আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি তাঁদের।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। তিনি বলেন, “আমি এখন কথা বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই। তবে আমি এই ঘটনায় জড়িত এমপি সাহেব, তাঁর প্রথম স্ত্রী এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।” ওবায়দুরকে মূল অভিযুক্ত করে তিনি আরও যোগ করেন, “ও সবচেয়ে বড় ক্রিমিনাল এবং সব অনিষ্টের মূল গোড়া। ওবায়দুরই সবকিছু ঘটিয়েছে এবং আমাদের পুরো পরিবারটাকে তছনছ করে দিয়েছে। আমি ওবায়দুরের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি চাই, যাতে সে আর কারো ক্ষতি করতে না পারে।”
ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মরিয়মের মা বলেন, “আমি আমার সন্তানের নির্মম পরিণতি ও আমাদের পরিবার ধ্বংসের কঠিন বিচার চাই। ওরা আমার টাকা-পয়সা থেকে শুরু করে সবকিছু নষ্ট করেছে। আমি সবকিছু মেনে নিয়ে নিজের মতো শান্তিতে বাঁচতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ওরা আমার সেই ফুটফুটে সন্তানকেও কেড়ে নিল।”
এদিকে মরিয়মের ফুফু পুরো ঘটনার নেপথ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ, অর্থ আত্মসাৎ ও মানসিক নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান প্রথমে কলেজ পৌঁছে দেওয়ার নাম করে মেয়েকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে তাঁর বাবার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া ঘটনার সময় ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন সময়মতো দরজা খুলে মরিয়মকে রক্ষা করা হলো না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মরিয়মকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাজধানী শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর বাবার দায়ের করা মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
Leave a comment