ফেনীতে চলমান দুটি সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, চাঁদা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না—এমন হুমকি দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই ঠিকাদার ফেনী মডেল থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত কামরুল হাসান মাসুদ ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইফুর রহমান রতন ফেনীতে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি ব্যবসা করছেন। শনিবার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার দৌলতপুর-ধলিয়া এলাকায় তাঁর মালিকানাধীন দুটি সড়কের উন্নয়নকাজ কামরুল হাসান মাসুদ ও তাঁর সহযোগীরা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাইফুর রহমান রতন অভিযোগ করেন, ২ কোটি ৮ লাখ টাকা মূল্যের ওই কাজের বিপরীতে কামরুল হাসান মাসুদ তাঁর কাছে ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
রতন আরও অভিযোগ করেন, এর আগে শহরের এসএসকে সড়কে তাঁকে মারধর করেন মাসুদ। পরে শহরের বড় বাজারে তাঁর দোকানের কাছে নিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। সম্প্রতি ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের চরহুজুরী সড়কের সংস্কারকাজ শেষে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার সময় মাসুদ ও তাঁর লোকজন বাধা দেন এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন রতন।
অন্যদিকে, স্বপন হার্ডওয়্যারের স্বত্বাধিকারী এনায়েত উল্যাহ স্বপনও কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ করেছেন।
স্বপনের দাবি, গত তিন দিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের সিডিউল ও তদারকির অজুহাতে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন মাসুদ। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্বপন আরও অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি কাজের সিডিউল কেনার সময় ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সঙ্গেও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটান মাসুদ। একপর্যায়ে প্রকৌশলীকে গালাগাল এবং পৌরসভা ভবনের ভেতরে মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুল হাসান মাসুদ। তিনি বলেন, দুটি অভিযোগই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। জেলা বিএনপির কাছে ঠিকাদার স্বপনের বিরুদ্ধে জায়গাজমি সংক্রান্ত একটি বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব তাঁকেসহ তিনজনকে দেওয়া হয়েছে। মূলত সেই ক্ষোভ থেকেই স্বপন তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
অন্য অভিযোগটিকেও ষড়যন্ত্রের অংশ দাবি করে মাসুদ বলেন, তাঁর বাড়ি ফেনী শহরে। তিনি ধলিয়ায় গিয়ে কেন চাঁদা চাইবেন—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, সড়কের উন্নয়নকাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতন তাঁকে জানিয়েছেন। তিনি সরাসরি ঠিকাদারি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নন জানিয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানান।
উন্নয়নকাজে কেউ যাতে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, চাঁদা দাবির কারণে সড়কের কাজ বন্ধ ও বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুই ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment