চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা এলাকায় সানরাইজ গ্রামার স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা অর্পিতা দাশ (২৬)। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা ছিল তার। নতুন অতিথির অপেক্ষায় ছিল পুরো পরিবার। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অর্পিতার মৃত্যু হয়েছে। তার সঙ্গে গর্ভের সন্তানটিও মারা গেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অর্পিতা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অর্পিতা চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মী মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী। এটি ছিল তাদের প্রথম সন্তান। আগামী অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সন্তান জন্মদানের সম্ভাব্য সময় ছিল তার।
গত ৬ সেপ্টেম্বর অর্পিতার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরদিন তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, বৃহস্পতিবার অর্পিতাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। শুক্রবার বিকেলে তিনি মারা যান। তিনি ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন এবং সন্তানসম্ভবা ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর কারণে গর্ভের সন্তানটিও মারা যায়।
তবে শনিবার বিকেলে দেওয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ১০ জন উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অর্পিতা দাশ নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ডেথ রিভিউ প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাকে মৃত্যুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিষয়টি পরবর্তী দিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে। শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ১০ জন।
এদিকে শনিবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু রোগীর বিবরণী অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দুজন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ছয়জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন আরও ১০ জন।
ইত্তেফাক/এপি
Leave a comment