গত ১৭ বছরে দেশে অসংখ্য সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অস্তিত্ব থাকলেও স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ কেবল একজন ব্যক্তি ও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য সংরক্ষিত ছিল বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহul কবির রিজভী। ফ্যাসিবাদী আমলের কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী মতের মানুষের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) একটি অনন্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকেও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদের আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। অথচ প্রতিকূলতার মাঝেও ডিআরইউ স্বাধীন সাংবাদিকতার ঐতিহ্য ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়।
১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন, একাধিক সংবাদপত্র বন্ধ এবং মুক্তচিন্তা স্তব্ধ করে দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে বাকশালের একটি নতুন সংস্করণ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। টকশো ও গণমাধ্যমের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নজরদারি জোরদার করে বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। যারাই গণতন্ত্র ও সত্যের পক্ষে সত্য কথা বলার চেষ্টা করেছেন, তাদের হয় গুমের ভয়াবহতার শিকার হতে হয়েছে, নয়তো ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বছরের পর বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করা, গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দেওয়া এবং আইনের শাসন বজায় রাখার জন্য মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। যেকোনো বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। সত্য প্রকাশের মধ্য দিয়েই দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Leave a comment