‘আমার একটামাত্র ছেলে, জমানো ১০ লাখ টাকা খরচ করেও তাকে বাঁচাতে পারলাম না’-বুক চাপড়ে এভাবেই আকুল বিলাপ করছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মজীবী মাহবুবুল বশর চৌধুরী। দুই মেয়ের পর জন্ম নেওয়া আদরের ছোট ছেলে আরশাদ উল্লাহ মাহিনকে (১৮) ঘিরে বাবা-মায়ের যত স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল, সব যেন এক নিমেষেই সড়কে পিষে শেষ হয়ে গেল। সতেরো দিন ধরে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন এই শিক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী সরকারি কলেজ থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন মাহিন। গত বুধবার দুপুরে পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বোর্ড স্কুলের সামনে পৌঁছালে মাহিনকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাথে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালক নিহত হন এবং মাহিনসহ অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় মাহিনকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছেলেকে বাঁচাতে অবসর জীবনের জমানো সঞ্চয় ও পেনশনের প্রায় ১০ লাখ টাকা পানির মতো খরচ করেছিলেন বৃদ্ধ বাবা। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা পাঁচ দিন পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাহিন। সোমবার রাতে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
হাটহাজারীর নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে মাহিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা নুর বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বড় দুই বোনের বিয়ের পর মা-বাবার একমাত্র শেষ ভরসা ছিলেন এই তরুণ। কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকালপ্রয়াণে হাটহাজারী সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অবিলম্বে এই রুটে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a comment