ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন গুলিশাখালী ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ.এ. বারী হাওলাদারকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে মাদরাসা প্রাঙ্গণে ক্লাস বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মাদরাসা চত্বরে সাবেক অধ্যক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান এ.এ. বারী হাওলাদার। এরপর তাকে আবারও স্বপদে বহাল রাখার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মাদরাসায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে এক বছরের জন্য বিনা বেতনে অধ্যক্ষ পদে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও তীব্র হয়।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাবেক অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে মাদরাসায় বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ঘটনা ঘটেছে। অবসরে যাওয়ার পরও তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর না করে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন বলেও অভিযোগ তাদের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘এ.এ. বারী হাওলাদারের দায়িত্ব পালনকালে মাদরাসায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে আর দায়িত্বে দেখতে চান না। তাকে পুনরায় দায়িত্বে আনা হলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
শিক্ষার্থীরাও পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাদের দাবি, মাদরাসার স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তবে এ.এ. বারী হাওলাদার দাবি করেন, কর্তৃপক্ষ তাকে যোগ্য বিবেচনা করেই এক বছরের জন্য পুনঃনিয়োগ দিয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে তার বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আনা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, পুনঃনিয়োগের আদেশ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে মাদরাসাটিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিষয়টির সমাধান না হলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিষয়টি তদন্ত করে মাদরাসার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a comment