Home আন্তর্জাতিক হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘গুরুতর পরিণতি’র হুঁশিয়ারি ইরানের
আন্তর্জাতিক

হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘গুরুতর পরিণতি’র হুঁশিয়ারি ইরানের

Share
Share

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কার্যক্রমে সামরিকভাবে অংশ নিলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘গুরুতর পরিণতি’র মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ সতর্কবার্তা দেন।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছিল, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কার্যক্রমে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা বিবেচনা করছে সিউল। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটি।

দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত না হলে এ ধরনের সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এর প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান বাঘায়ি। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালিতে কোনো দেশ সামরিক বাহিনী মোতায়েন করলে কিংবা সামরিক অভিযানে অংশ নিলে, সেটিকে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হয়েছে বলে দাবি করে আসছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিরাপত্তা কার্যক্রমে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইরান।

এদিকে হরমুজ প্রণালির বাইরে নতুন একটি সামুদ্রিক নিষিদ্ধ এলাকা চালুর পরিকল্পনা করছে ইরান। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ ওই এলাকায় প্রবেশ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি।

টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের রেখা থেকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের বিভিন্ন পণ্য ওঠানামার বন্দরের দিকে নতুন এই নিষিদ্ধ এলাকা বিস্তৃত হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে—এমন বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন রেজায়ি। তিনি ওই বক্তব্যকে ‘বড় মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন।

রেজায়ি বলেন, অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা মার্কিন জাহাজগুলোর গতিবিধি ইরানি বাহিনী পর্যবেক্ষণ করছে। এ ধরনের জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

রেজায়ির দাবি, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আগে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করত। এসব জাহাজে ১০ কোটি টনের বেশি পণ্য পরিবহন করা হতো। বর্তমানে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮টি জাহাজ এই করিডোর ব্যবহার করছে। এর বেশির ভাগই ইরানের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার থাকবে—এমন বিধান রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল,...

নিউজিল্যান্ড থেকে উড্ডয়নের পরপরই কোয়ান্টাস বিমানের ইঞ্জিনে বিস্ফোরণ

ব্রাজিলের সাও পাওলোতে উড্ডয়নের পর ডেল্টা এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনায় জরুরি অবতরণ করেছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে...

Related Articles

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে হাজারো প্রাণহানি: নেপালে রাষ্ট্রীয় শোক পালন

ভোটকোদশী নদীর আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণ হারানো অসংখ্য মানুষের স্মরণে...

‘নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য সহ্য করা হবে না’: থালাপতি বিজয়

নারীদের নিয়ে মানহানিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে...

ইন্দোনেশিয়ায় বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৬ শিশুসহ ১১ জনের করুণ মৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় পাপুয়া প্রদেশের পানিয়াই শহরের একটি জনবহুল স্থানীয় বাজারে মধ্যরাতে ভয়াবহ...

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত : বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ৯৭ ডলার ছুঁইছুঁই

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের তীব্র সামরিক সংঘাত এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ...