গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জেইতুন এলাকায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির ক্ষত আবার তাজা হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মালকা পরিবারের পৈতৃক বসতবাড়ি থেকে দীর্ঘ তিন বছর পর অন্তত ৫৫ জন ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এতদিন ধরে নিখোঁজ থাকা এই নাগরিকদের মর্মান্তিক পরিনতির খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মূলত ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জেইতুন এলাকার ওই আবাসিক ভবনটিতে অত্যন্ত শক্তিশালী বোমাবর্ষণ করা হয়। যুদ্ধের একদম শুরুর দিকে তীব্র ও বর্বর আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে মালকা পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে পৈতৃক এই ভিটাতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঠিক মুহূর্তে ভবনটিতে একই পরিবারের অন্তত ৬০ জনেরও বেশি সদস্য অবস্থান করছিলেন, মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাড়িটি মাটির সঙ্গে মিশে যায়।
দীর্ঘদিন পর পরিচালিত এক বিশেষ তৎপরতায় টানা তিন দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালান উদ্ধারকর্মীরা। ভারী যন্ত্রপাতি ও সীমিত সামর্থ্য নিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একে একে ৫৫টি মরদেহ বের করে আনা সম্ভব হয়। অনেক দেহাবশেষ সম্পূর্ণ বিকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এখনো নিখোঁজ থাকা বাকি স্বজনদের সন্ধানে জেইতুন এলাকার ওই ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীরা অবিরাম উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উদ্ধার অভিযানের সরাসরি তদারকি করা সিভিল ডিফেন্সের স্থানীয় সমন্বয়ক জানিয়েছেন, মালকা পরিবারের উদ্ধারকৃত সব সদস্যের স্মৃতি প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে তাদের একযোগে যৌথ জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে। বছরের পর বছর প্রিয়জনদের অন্তত একটু মাটি দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা স্বজনরা এখন শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
Leave a comment