ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং নারী ও শিশুসহ আরও ১৪২ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা চার দিন ধরে চলা মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতের পাশাপাশি আহত ১৪২ জনের মধ্যে ৬১ জন নারী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী ৪৪ জন শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কারমানপুর জানান, নিহতের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে। হতাহতের এই সংখ্যা কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং প্রতিটি সংখ্যার পেছনে একেকটি বিপর্যস্ত পরিবার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক দিক বিবেচনার আহ্বান জানান। দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় সবচেয়ে বড় হতাহতের ঘটনাটি ঘটে, যা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তেহরান এটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
তবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা কেবল ইরানের সামরিক অবকাঠামো, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ও নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করেছে। এই হামলার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতের মতো মিত্র দেশগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
গত জুনে হরমুজ প্রণালী সচল রাখা ও যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন না হওয়ায় জুলাই থেকে সংঘাত পুনরায় চরম রূপ নেয়। বিশ্বের প্রধান তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে চরম অনিশ্চয়তা ও জাহাজ চলাচল হ্রাস পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে।
Leave a comment