পরিবারসহ আত্মগোপনে যাওয়া চাঁদপুরের স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের (৪৫) বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক নাশকতা বা বড় কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রাহকদের স্বর্ণালংকার ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা প্রতারণার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) চাঁদপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা ও চাঁদপুরের একাধিক তদন্তকারী দল পিন্টু দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক নাশকতা বা বড় কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে গ্রাহকদের টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। একজনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী। গত ১৯ আগস্ট রাতে শহরের কালীবাড়ি মন্দিরসংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চলে যান। এ সময় বাসার অধিকাংশ মালামালও সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর তাঁর কাছে স্বর্ণালংকার ও টাকা পাওনা থাকার অভিযোগে কয়েকজন গ্রাহক পুলিশ ও স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পিন্টু দাসকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দলঘাট দাসপাড়ার তাঁর নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আটক করে চাঁদপুর মডেল থানা-পুলিশের একটি দল।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, শনিবার সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার মো. মনসুর খানের ছেলে মো. রাসেল খান বাদী হয়ে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রয়োজনে রাসেল খানসহ আরও পাঁচ থেকে ছয়জন বিভিন্ন সময়ে পিন্টু দাসের দোকানে স্বর্ণের চেন, কানের দুল, লকেটসহ বিভিন্ন অলংকার বন্ধক রেখে টাকা নেন। পরে ঋণের মূল টাকা পরিশোধ করে বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে পিন্টু দাস টালবাহানা ও কালক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পিন্টু দাসের কাছে রাসেল খানের প্রায় ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার পাওনা রয়েছে।
Leave a comment