চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিয়ের জন্য পাত্রী দেখে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় অপু দাশ (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে রাউজানের কাপ্তাই সড়কের পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু দাশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের রাস বিহারি ধামের পাশের বাঘার বাড়ির প্রয়াত বাদল দাশের ছেলে। তিনি রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালে মার্কেটিং কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে রাউজানের বাগোয়ান এলাকার গঙ্গা মন্দিরে অপুর জন্য পাত্রী দেখা হয়। এ সময় দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের বিষয়ে প্রাথমিক কথাবার্তাও হয়। পরে অপু কর্মস্থলে গিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। রাত আটটার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, কাপ্তাই সড়কের পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহ এলাকায় পৌঁছালে একটি প্রাইভেট কার পেছন থেকে তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে অপু সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
অপুর প্রতিবেশী শিবু চক্রবর্তী বলেন, শুক্রবার বিকেলে অপুর জন্য পাত্রী দেখা হয়েছিল। বিয়ের বিষয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস চলছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল।
দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (মার্কেটিং) মৃণাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, অপু অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে হাসপাতালের সবাই শোকাহত।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অপুর মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Leave a comment