নানা জল্পনা-কল্পনা, বিরোধ ও দিনভর উত্তেজনার পর শর্তসাপেক্ষে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান হলেও আগামী বছর থেকে ওই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন না করার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এবার পূর্বনির্ধারিত সময়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) এশার নামাজের পর বারইগ্রাম বাজারে এ বিষয়ে বৈঠক হয়। লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুবক, মুরব্বি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
তবে ‘তৌহিদি জনতা’ ব্যানারে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানানো ব্যক্তিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
বৈঠকে উপস্থিত লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নৌকাবাইচ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের সমাধান হয়েছে। তবে আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান, লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, ইউপি সদস্য আবদুল লতিফ, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান, লাউতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন, জাসাসের বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সমাজসেবক আব্দুল ওয়াহাব, লাউতা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল আহাদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, নৌকাবাইচ এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা মতপার্থক্যের কারণে এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব। তাই মতপার্থক্য ও বিরোধ নিরসনে পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে মাওলানা নুরুর রহমান মাসুক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হক কাসেমী এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হোসেন আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
ইউপি চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, আয়োজক সংগঠন ‘বাহাদুর গাংপাড় যুব সমাজ’ এ বছর পূর্বনির্ধারিত সময়ে নৌকাবাইচ আয়োজনের সুযোগ চেয়েছে। তবে আগামী বছর থেকে তারা সুনাই নদীতে এ আয়োজন করবে না। উভয় পক্ষ এতে সম্মত হওয়ায় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পূর্বনির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে জটিলতার সমাধান হয়েছে। এখন প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম। তিনি বলেন, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে আগামী বছর থেকে নৌকাবাইচ আয়োজন করা হবে না—এমন শর্তে এবার ২৮ আগস্ট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই।
Leave a comment