সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগর উপকূলীয় জিজান এলাকায় অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ জ্বালানি কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’র একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি।
রবিবার (৯ আগস্ট) এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র জানায়, তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ড্রোনের সাহায্যে জিজানের উক্ত আরামকো শোধনাগারটিকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত সাদাহ ও হাজ্জাহ গভর্নরেটের সীমান্ত ও আকাশসীমায় সৌদি সামরিক ড্রোনের কথিত অনুপ্রবেশের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা এই হামলাটি পরিচালনা করেছে বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, ভোরে জিজান শোধনাগারের একটি স্পর্শকাতর স্থাপনায় হঠাৎ আগুন লাগার কথা নিশ্চিত করেছে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়। তবে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কোম্পানির প্রশিক্ষিত অগ্নিনির্বাপক দলের দ্রুত তৎপরতায় ক্ষণিকের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এতে কোনো ধরনের হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে সংগঠিত অগ্নিকাণ্ডটি হুথিদের ড্রোন হামলার প্রত্যক্ষ ফল কি না, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা স্বাধীন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
লক্ষণীয় যে, লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বহুমুখী যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরবের কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হুথিদের এই জাতীয় হামলা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগর হয়ে বৈশ্বিক তেল রপ্তানির বিকল্প রুটগুলো সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের প্রচেষ্টা নতুন করে এক বড় ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।
Leave a comment