একে অপরের সাথে খেলতে খেলতে সড়কের পাশের ডোবায় পড়ে যায় দুই শিশু। স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একজনকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচাতে গিয়ে অপরজনও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ডোবা থেকে উদ্ধার করা হলেও কাউকেই আর জীবিত বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তবে মৃত্যুর পরও তাদের হাত ছিল একে অপরের মুঠোয় শক্তভাবে ধরা। হৃদয়বিদারক ও ট্র্যাজিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায়।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার নোয়াদিও গ্রামে অত্যন্ত মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশু দুটো হলো তাওহীদ (৭) ও নাবিল (৬)। তারা সম্পর্কে আপন মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং উভয়েই স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। জানা যায়, নাবিল নোয়াদিও গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে এবং তাওহীদ পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলার মাহবুবুর রহমানের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে তাওহীদ নানাবাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার বায়না ধরলে দুপুরের দিকে মা-বাবা তাকে নোয়াদিও গ্রামে নিয়ে যান। দুপুরের খাবার শেষে নাবিল ও তাওহীদ একসাথে খেলতে বের হয়। সড়কের পাশের একটি ডোবার কাছে খেলার সময় হঠাৎ নাবিল পানিতে পড়ে গেলে তাওহীদ তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করে এবং উভয়েই গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের সাথে থাকা অপর এক শিশু চিৎকার করে পাশের জমিতে থাকা এক কৃষককে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে ওই কৃষক দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পানিতে নেমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রথমে তাওহীদকে তুলতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পানির নিচে অপর শিশু নাবিলের হাত তাওহীদের হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরা ছিল। দুজনকেই উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
একসঙ্গে দুই নাতিকে হারিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এখন শোকের মাতম চলছে। এই বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a comment